প্রতিষ্ঠানের আকার যা-ই হোক না কেন মাত্র ২০ জন শ্রমিককে নিয়ে ইউনিয়ন গঠন করা যাবে। সংশোধিত শ্রম আইনে এমন বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ প্রস্তাবে শিল্প খাতের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করছে শিল্প মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) নেতৃত্বে রফতানিমুখী শিল্পসংশ্লিষ্ট নয়টি সংগঠন মনে করে এ প্রস্তাব শিল্পের বাইরের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করতে পারে। গতকাল বিইএফসহ মোট ১০টি সংগঠনের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি), বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ), বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি (বিএপিআই), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (ব্যাকো) ও বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। বিইএফ জানিয়েছে, উল্লিখিত সংগঠনগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি তৈরি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংস্কার অবশ্যই বাংলাদেশের বাস্তবতা, যা শিল্প খাতের প্রেক্ষাপট এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ভিত্তিতে হতে হবে। কোনো আরোপিত বাহ্যিক চাপের ভিত্তিতে হলে তা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। গত দুই দশকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সরকার বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধন করেছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় আইএলও ও ইইউ রোডম্যাপের অধীনে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ৯০ শতাংশেরও বেশি বিষয়ে অংশীজনরা (সরকার, শ্রমিক ও মালিক) একমত হয়েছে। কিন্তু শ্রম আইন বারবার পরিবর্তনের ফলে মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। মালিকরা মনে করিয়ে দেন, সংস্কার কার্যকর করতে হলে তা বাস্তবসম্মত, জাতীয়ভাবে গৃহীত এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রয়োগযোগ্য হতে হবে।
২০ জন শ্রমিককে নিয়ে ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাবের প্রসঙ্গে বলা হয়, অংশীজনরা ত্রিপক্ষীয়ভাবে একমত হওয়ার পরও সংশোধিত শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে নতুন সুপারিশ আনা হয়েছে। যার ফলে শ্রমবাজারের মূল অংশীজন মালিক ও শ্রমিককে প্রায় পাশ কাটানো হচ্ছে। এর বড় একটি উদাহরণ হলো প্রতিষ্ঠানের আকার যা-ই হোক না কেন মাত্র ২০ জন শ্রমিককে নিয়ে ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব। এ একমুখী বিধানের প্রস্তাব শিল্প খাতের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে করা হয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। এ প্রস্তাব শিল্পের বাইরের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি, কর্মক্ষেত্রের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করতে পারে।
সংগঠনগুলো মনে করে, প্রকৃত ট্রেড ইউনিয়ন শক্তিশালী করার পরিবর্তে এ ধরনের উদ্যোগ কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ডেকে আনতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত শ্রমিক ও মালিক উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
আইএলও ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনগুলো বলছে, আইএলও ও উন্নয়ন সহযোগীরা যেন ত্রিপক্ষীয়তার নীতি বজায় রাখে এবং ভবিষ্যতে তাদের যেকোনো পর্যবেক্ষণ সরকার, শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়াকে বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও পরামর্শভিত্তিকভাবে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়, যাতে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হয় এবং বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় থাকে।